গুগল স্টেডিয়া দ্বারা শুরু হতে যাচ্ছে ক্লাউড গেমিংয়ের যুগ!

গুগল স্টেডিয়া: শুরু হতে যাচ্ছে ক্লাউড গেমিংয়ের যুগ

এমন একটি সময়ের কথা ভাবুন, যখন আপনার প্রিয় ওপেন ওয়ার্ল্ড গেমগুলো খেলার জন্য আপনার নিজের কম্পিউটারের ক্ষমতা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। অনেক দাম দিয়ে হার্ডওয়্যার কেনারও প্রয়োজন হবে না। শুধু ব্রাউজারটি খুলে একটি গেম বেছে নিয়ে প্লে বাটনে চাপ দেবেন এবং কিছু সময়ের মধ্যেই গেমটি আপনার পিসিতে চলতে শুরু করবে। যার জন্যে বিশালাকারের কোনো ফাইল ডাউনলোড কিংবা ইন্সটলেরও কোনো দরকার হবে না।

স্বপ্নের মত শোনাচ্ছে? গুগল তাদের নতুন ক্লাউড গেমিং সার্ভিসের ঘোষণা দিয়ে পৃথিবীকে এমন একটি ভবিষ্যতের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। তাদের দেওয়া ঘোষণা অনুযায়ী, শুধুমাত্র ক্রোম ব্রাউজার দিয়েই ফোর-কে (4K) রেজ্যুলেশনে ৬০ ফ্রেম পার সেকেন্ডে (fps) যেকোনো গেম খেলা যাবে এবং গেমগুলো আরম্ভ হতে পাঁচ সেকেন্ডের বেশি সময় নেবে না।

গত জিডিসি (গেম ডেভেলপারস কনফারেন্স) ২০১৯ সম্মেলনে গুগল তাদের ‘গুগল স্টেডিয়া’ নামে পরিচিত এই নতুন গেম স্ট্রিমিং সার্ভিসটির ঘোষণা দিয়েছে। এই প্রজেক্টটি দীর্ঘদিন থেকে ‘প্রজেক্ট স্ট্রিম’ নামে পরিচিত ছিল। স্টেডিয়ার মাধ্যমে বড় গেমগুলো চালানোর যাবতীয় জটিলতা গুগল নিজের ঘাড়ে নিয়ে নিচ্ছে। তাদের সার্ভারেই গেমগুলোর সর্বশেষ ভার্সন অনেক উচ্চ রেজ্যুলেশন আর ফ্রেম রেটে রান হবে। সেখান থেকেই গেমগুলো স্ট্রিমে এনকোড হবে এবং এরপরে ব্যবহারকারীর কাছে পাঠিয়ে দেবে। ব্যবহারকারী এরপর গেম তাদের ডেস্কটপ, ল্যাপটপ এমনকি স্মার্টফোনেও খেলতে পারবে।

কীভাবে কাজ করবে এই প্ল্যাটফর্ম? এক কথায় বলতে গেলে এটি গেমিং ইন্ডাস্ট্রির ‘নেটফ্লিক্স’ হতে চলেছে। এটা মূলত ক্লাউড গেমিং সার্ভিস হলেও তাতেই থেমে নেই। গেমের ডেভেলপমেন্ট থেকে অনলাইনে হোস্টিং, ব্যবহারকারীর কাছে তা পৌঁছে দেওয়া এবং একই সাথে তা প্রচারণা করা সবই এই এক প্ল্যাটফর্মে এসে একত্রিত হবে। যদিও গুগল স্টেডিয়া মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত বিশদভাবে কিছুই বলা যাচ্ছে না কিন্তু এই সার্ভিসটির প্রাথমিক তথ্যগুলোই এত চমকপ্রদ যে অনুমান করা হচ্ছে তা ভিডিও গেম ইন্ডাস্ট্রিতে বিশাল পরিবর্তন আনবে।

প্রাথমিক খুঁটিনাটি

স্টেডিয়ার মস্তিষ্ক হিসেবে কাজ করবে গুগল ডেটা সেন্টারের পৃথিবীব্যাপী নেটওয়ার্কটি। নেটফ্লিক্সের মতোই স্টেডিয়া তার ব্যবহারকারীদের একটা লাইব্রেরির সুবিধা দেবে যেখান থেকে তারা নিজেদের পছন্দমত গেমটি খেলা শুরু করতে পারবে। কোনো ডাউনলোড বা ইন্সটল করার প্রয়োজন হবে না। একটা সুস্থির, দ্রুতগামীর ইন্টারনেট সংযোগ এবং গুগল ক্রোম ব্রাউজারের সর্বশেষ ভার্সন থাকলেই এই সার্ভিসটি উপভোগ করতে পারবে। স্টেডিয়ার হোমপেজ অথবা ইউটিউবে নির্দিষ্ট গেমটির ভিডিও লিংক থেকেই গেমটি খেলা যাবে।

গুগল ইন্টারনেট সংযোগের একটি ন্যুনতম শর্ত দিয়েছে যার নিচে গেমগুলো ভালোভাবে চলবে না। সর্মনিম্ন ১৫ এমবিপিএস গতি, সর্বোচ্চ ৪০ মিলিসেকেন্ড ল্যাটেনসি সময় (সার্ভার থেকে ব্যবহারকারী পর্যন্ত তথ্য আদান-প্রদানের সময়) এবং ৫% পর্যন্ত ডেটা লস পরিমাণের ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে। একটি গেম ক্রোম ব্রাউজারে চালানো হলে গেমিং কম্পিউটারের মতো করেই তা পুরো স্ক্রিনজুড়ে দেখা যাবে। গেম চলাকালীন সময়ে গেমারের সবগুলো ইনপুট গুগলের সার্ভারে যাবে, তা গেমে প্রয়োগ হবে এবং এই ইনপুটের ফলে গেমের ভেতরের পরিবর্তনগুলো আউটপুট হিসেবে সরাসরি স্ট্রিম হয়ে ফেরত আসবে। এজন্যেই ল্যাটেনসি এত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইনপুট দেওয়ার সাথে সাথে যদি আউটপুট না পাওয়া যায় তাহলে তা গেমিং অভিজ্ঞতা নষ্ট করবে।

গুগল স্টেডিয়াতে শুরুতে ফোর-কে (4K) রেজ্যুলেশনে ৬০ ফ্রেম পার সেকেন্ডে (fps) গেম খেলা যাবে পরবর্তীতে যা এইট-কে (8K) রেজ্যুলেশনের ১২০ ফ্রেম পার সেকেন্ডের উপরে পর্যন্ত বর্ধিত করা হবে। এত উচ্চ রেজ্যুলেশন এবং ফ্রেমরেট সাধারণ পিসি গেমিংয়ের স্ট্যান্ডার্ডের চেয়েও অনেক বেশি। তাছাড়া বর্তমানের কোনো জিপিইউরই একা এইট-কে কোয়ালিটিতে গেম চালানোর ক্ষমতা নেই। গুগল তাদের ডেটা সেন্টারের জিপিইউগুলোকে সফটওয়্যারের মাধ্যমে একত্রিত করে ব্যবহারকারীর চাহিদা অনুযায়ী এত উঁচুমানের গেমিং অভিজ্ঞতার সুযোগ তৈরি করবে।

স্টেডিয়ার গ্রাফিক্স প্রসেসিংয়ের অংশটি দেখভাল করার জন্যে গুগল জিপিইউ নির্মাতা কোম্পানি এএমডির সাথে একত্রিত হয়েছে। এএমডি গুগলের ডেটা সেন্টারগুলোর জন্য জিপিইউ তৈরি করে দেবে। কোম্পানিটির আগে থেকেই গেমিং কনসোলের প্রসেসর নির্মাণের জন্য যথেষ্ট খ্যাতি আছে। এক্সবক্স ওয়ান এক্স এবং পিএসফোর প্রো এর মতো কনসোলের শক্তিশালী গ্রাফিক্স প্রসেসরের পেছনে তারাই ভূমিকা পালন করছে। গুগলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী স্টেডিয়ার গ্রাফিক চিপটি ১০.৭ টেরাফ্লপস ক্ষমতার অধিকারী যার অর্থ এটি সেকেন্ডে ১০.৭ ট্রিলিয়ন অপারেশন পরিচালনা করতে সক্ষম। প্লে-স্টেশন ফোর প্রো এবং মাইক্রোসফটের এক্সবক্স ওয়ান এক্সের প্রসেসিং ক্ষমতা যথাক্রমে ৪.২ এবং ৬ টেরাফ্লপস। অর্থাৎ, স্টেডিয়া এই দুইটি কনসোলের সমন্বিত ক্ষমতার চেয়েও বেশি প্রসেসিং ক্ষমতা ধারণ করে।

কী কী গেম থাকছে

ইউবিসফট ইতিমধ্যেই তাদের ‘অ্যাসাসিন্স ক্রিড অডিসি’ গেমটি স্টেডিয়াতে মুক্ত করেছে। ঘোষণার সময়ে গেমটি স্টেডিয়াতে প্রদর্শনও করা হয়েছে। ইউবিসফট তাদের পরবর্তী গেমগুলোও এই প্ল্যাটফর্মে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এসব গেমের মধ্যে রয়েছে ট্রায়ালস রাইজিং, স্কালস এন্ড বোনস এবং অ্যানো ১৮০০। তাছাড়া আনরিয়েল, ইউনিটি এবং হ্যাভক ইঞ্জিনগুলোর সাথে সমন্বয়ে স্টেডিয়াতে ভবিষ্যতে অনেক গেম দেখা যাবে।

স্টেডিয়ার মুক্তির সময়ে তার লাইব্রেরিতে সায়েন্স ফিকশন হরর শ্যুটার গেম ‘ডুম এটারনাল’ একটি বড় নাম হিসেবে থাকবে। গেমটির নির্বাহী প্রযোজক মার্টি স্ট্র্যাটন বলেছেন, তাদের গেমটি স্টেডিয়ার জন্যে অপটিমাইজ করতে মাত্র এক সপ্তাহ সময় নিয়েছে। তাই ধারণা করা যায় অন্য গেমও খুব সহজে স্টেডিয়ার লাইব্রেরিতে যোগ দিতে পারবে।

যদিও গুগল এখন পর্যন্ত কী কী গেম স্টেডিয়াতে থাকবে সে ব্যাপারে কিছু বলেনি কিন্তু তারা কী কী গেম অফার করতে সক্ষম তা বোঝা গেছে। স্টেডিয়া প্ল্যাটফর্মটি প্লেয়ারদেরকে নিজেদের গেমে একে অপরকে আমন্ত্রণ জানানোর সুযোগও দিচ্ছে। এই সার্ভিসটি ইউটিউবে গেমিং কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্যে নতুন একটি দরজা উন্মুক্ত করবে।

স্টেডিয়া থেকে একই সাথে গেম খেলা এবং এবং তা ইউটিউবে সম্প্রচার করার সুবিধা থাকবে। অর্থাৎ একটা ফোর-কে রেজ্যুলেশনের ভিডিও সিগন্যাল একই সাথে ইউটিউব এবং ব্যবহারকারীর ডিভাইসে পাঠানো সম্ভব হবে।

আরেকটি ফিচার হচ্ছে ‘স্টেট শেয়ার’। গেমার যদি নিজের গেমিং এডভেঞ্চারে অন্য কাউকে সঙ্গী হিসেবে নিতে চায় তাহলে শুধুমাত্র একটি গুগল লিংক তৈরি করে অন্য একজন গেমারকে আমন্ত্রণ জানাতে পারবে। এভাবে একজন গেমার অন্যজনকে কোনো ফাইনাল লেভেল বা গেমের বস ফাইটে চ্যালেঞ্জও দিতে পারবে।

আধুনিক গেমিং ইন্ডাস্ট্রির দুটি বড় শাখাকে এভাবে এই প্ল্যাটফর্ম একত্রিত করবে: ডেভেলপার যারা এই চমৎকার গেমিং দুনিয়াগুলো তৈরি করেন এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর যারা ইউটিউবে ‘ফোর্টনাইট’ বা ‘এপেক্স লিজেন্ডে’র মতো মাল্টিপ্লেয়ার গেমগুলো সম্প্রচার করেন। স্টেডিয়ার মুখপাত্র ফিল হ্যারিসন বলেছেন,

গেম খেলা এবং অনলাইনে তা দেখার দুইটি ভিন্ন দুনিয়া একত্রিত হয়ে নতুন প্রজন্মের এই গেম প্ল্যাটফর্মে রূপ নিচ্ছে। স্টেডিয়ার জন্যে আমাদের ভিশন খুবই সরল। একটিমাত্র প্ল্যাটফর্মে গেমের সব ধরনের সুবিধা থাকবে। এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে গেমারদের জন্য, অনুপ্রাণিত হয়েছে ডেভেলপারদের দ্বারা এবং সম্প্রসারিত হয়েছে ইউটিউব ডেভেলপারদের মাধ্যমে।

কবে রিলিজ হবে

২০১৯ এর মাঝের কোনো এক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং কানাডা সহ কয়েকটি দেশে স্টেডিয়া মুক্তি পাবে। গুগল অবশ্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট দিন ধার্য করেনি। এ বছরেরই জুন মাসে স্ট্যাডিয়ার নতুন একটি আপডেটও ঘোষণা করা হবে।

এখনো অল্প কয়েকটি গেমের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে যা স্ট্যাডিয়ার লাইব্রেরিতে থাকবে। তাছাড়া বাজারে ছাড়ার আগে এফসিসি (ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন) স্টেডিয়া গেমপ্যাডটি পরীক্ষা নিরীক্ষা করবে। তাতেও কিছু সময় ব্যয় হবে। ধারণা করা হচ্ছে, জুন আপডেটে কী কী গেম স্টেডিয়ার লাইব্রেরিতে থাকবে তা জানানো হবে।

মূল্য

গুগল এখনো এই সার্ভিসটির জন্যে কোনো মূল্য ঘোষণা করেনি কিন্তু ফিল হ্যারিসন আর ইউবিসফটের সিইও ইভ গিয়েমো মূল্যতালিকার একটা মডেলের কথা উল্লেখ করেছেন যা অন্যান্য স্ট্রিমিং সার্ভিসের চেয়ে একেবারেই ভিন্ন হবে। হ্যারিসন বলেছেন, সার্ভিসটির জন্যে কত মূল্য ধরা হবে তা দুইবছরের একটি প্রক্রিয়া ছিল।

দুই বছর ধরে স্টেডিয়ার পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যে আমাদের একটি অসাধারণ গবেষণা দল ছিল। তাই মূল্যের ব্যাপারে আমাদের নিজস্ব কিছু ভাবনা তৈরি হয়েছে। আমরা এরপর ক্রেতা এবং গেমগুলোর অংশীদারদের সাথে এই ভাবনাগুলো পরীক্ষা করেছি এবং উপযুক্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি।

বর্তমানে চলা ক্লাউড গেমিং সার্ভিস  যেমন ‘প্লে-স্টেশন নাউ’ ও ‘শ্যাডো’ যথাক্রমে ২০ ডলার ও ৩৪.৯৫ ডলার করে মাসিক খরচ কেটে নেয়। ইভ গিয়েমো বলেছেন স্টেডিয়া নিয়মিত এবং অনিয়মিত উভয় ধরনের গেমারদের কথা চিন্তা করেই মূল্য ঠিক করবে।

আমার মনে হয় বিভিন্ন ধরনের পন্থা থাকবে। হয় আপনি সম্পূর্ণ মূল্য দিয়ে সার্ভিসটি কিনবেন আর নাহলে দিনে এক ঘন্টা-দুইঘন্টা খেলার জন্যে কিনবেন।

মাল্টিপ্লেয়ার গেমিং

অনলাইন মাল্টিপ্লেয়ার গেমগুলো স্ট্রিমিং সার্ভিস দিয়ে খেলার একটা বড় বাঁধা হচ্ছে ল্যাগ। অনেকসময় সার্ভার যথেষ্ট দ্রুত না হওয়ায় গেমারদের ইনপুট দিয়ে সাথে সাথে আউটপুট না পাওয়ার বিড়ম্বনা সহ্য করতে হয়। স্টেডিয়াকে মাল্টিপ্লেয়ার গেমিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গেমারদের নজর কাড়তে হলে এই সমস্যাটি দূর করতে হবে।

এক্ষেত্রে গুগলের প্রথম পদক্ষেপটি হচ্ছে স্টেডিয়া কন্ট্রোলার। এটা গেমারের ডিভাইসে সংযুক্ত না হয়ে ওয়াই ফাইয়ের মাধ্যমে সরাসরি গুগল সার্ভারে যোগাযোগ করবে। এই পদ্ধতিতে ইনপুট আউটপুটের গতি কিছুটা বৃদ্ধি পাবে। তবে গুগল ভবিষ্যতের জন্যেও কিছু চিন্তা করে রেখেছে। তারা হ্যাভক, ইউনিটি এবং আনরিয়েলের মতো গেম ইঞ্জিন নির্মাতা কোম্পানিগুলোর সাথে এই প্ল্যাটফর্মটিকে একত্রিত করেছে যেন ডেভেলপাররা সরাসরি স্টেডিয়াতেই গেম তৈরি করে। এভাবে ভবিষ্যৎ মাল্টিপ্লেয়ার গেমগুলো স্টেডিয়া সার্ভার থেকেই নিয়ন্ত্রিত হবে। ফলে গেমারের ইনপুটটি স্টেডিয়া সার্ভার এবং গেমের কেন্দ্রীয় সার্ভার মিলিয়ে দুইটি জায়গায় পাঠানোর প্রয়োজন হবে না। গেমাররা তাতে ল্যাগমুক্ত গেমিং অভিজ্ঞতা পাবে।

এক্ষেত্রে ফিল হ্যারিসন বলেছেন,

ডেভেলপাররা গুগলের ডেটা সেন্টারেই মাল্টিপ্লেয়ার গেম তৈরি করতে পারবে যা বর্তমানের যে আকারের দিক থেকে মাল্টিপ্লেয়ার অভিজ্ঞতার চেয়েও অনেক বড় হবে। ব্যাটল রয়েল গেমগুলো বর্তমানে একসাথে সর্বোচ্চ একশজন প্লেয়ার খেলতে পারে যা ভবিষ্যতে এক হাজার প্লেয়ারে উন্নীত হবে।

লাইভ স্ট্রিমিং

গুগল ‘ক্রাউড প্লে’ নামে স্টেডিয়ার নতুন একটি ফিচারও উন্মুক্ত করেছে। এই ফিচারটি ভক্তদেরকে তাদের প্রিয় ইউটিউব কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের সাথে অনলাইনে খেলার সুবিধা দেবে।

কোনো স্ট্রিমার যদি ইউটিউবে একটি গেম সম্প্রচার করতে থাকে তখন দর্শকরা শুধুমাত্র একটি বাটনে চাপ দিয়েই সেই স্ট্রিমারের সাথে খেলা আরম্ভ করতে পারবে। ইউটিউব এভাবে একই সাথে গেম দেখা এবং গেম খেলার প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে।

একটা গেম তৈরির সময় ডেভেলপাররা প্রধানত গেমটির গল্প, গেম ওয়ার্ল্ডটির আচার-আচরণ এবং মাল্টিপেয়ার সুবিধার ধরনের দিকে মনোযোগ দেয়। গুগল আশা করছে, স্টেডিয়া মুক্তি দেওয়ার পরে ভবিষ্যতে ডেভেলপাররা ইউটিউবে দর্শকের কাছে কোনো গেম কীভাবে উপস্থাপন করা হবে তার উপরেও নজর দেবে।

গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট

প্রতিটি স্টেডিয়া গেমপ্যাডে একটি ‘গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট’ বাটন রয়েছে। গেমাররা এই বাটন দিয়ে গেমগুলোর বিশেষ ফিচারের সুবিধা উপভোগ করতে পারবে। গেমের ভেতরে কোনো কঠিন লেভেলে আটকা পড়লে গুগল তার ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টের মাধ্যমে গেমারদেরকে পরামর্শও দেবে।

গুগল দাবি করছে, তাদের ভবিষ্যৎ অনলাইন গেমগুলো গুগলের সার্ভারে কোনো হ্যাক বা চিট সফটওয়্যার ছাড়াই খেলা যাবে। মাল্টিপ্লেয়ার শ্যুটার গেমে কিছু সফটওয়্যার ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শত্রুদেরকে লক্ষ্য করে গুলি করা যায়। আবার কিছু সফটওয়্যার আছে যেগুলো ভিডিও বিশ্লেষণ করে কোনো নির্দিষ্ট প্লেয়ারের গতিবিধি সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করে। এ ধরনের কার্যক্রম মাল্টিপ্লেয়ার গেমের পরিবেশকে নষ্ট করে। গুগল আশা করছে তাদের বিশেষ এলগিরদম দিয়ে এসব সমস্যা নিরসন করা যাবে যদিও বিশেষজ্ঞরা এখনো তা নিয়ে বেশ সন্দিহান।

শেষ কথা

স্টেডিয়ার মাধ্যমে গেমারদের জন্যে গুগল একটি নতুন যুগের শুরু করেছে। কিন্তু এই যুগের কর্তৃত্ব গুগলের কাছে কতদিন থাকে তা এখনো বলা যাচ্ছে না। ইতোমধ্যেই কনসোল গেমিংয়ের সবচেয়ে বড় দুইটি নাম মাইক্রোসফট এবং সনি একত্রিত হয়েছে নিজেদের ক্লাউড গেমিং সার্ভিস তৈরি করার জন্যে। বোঝা যাচ্ছে, ক্লাউড গেমিংই গেমিং জগতের ভবিষ্যৎ হয়ে দাঁড়াবে। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এভাবে ধীরে ধীরে গেমারদেরকে ভবিষ্যতের পৃথিবীর পানে নিয়ে যাবে, আমাদের কল্পনাওগুলো বাস্তবে রূপদান করবে।

You might also like

Comments are closed.